টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের লক্ষীদিয়া গ্রামে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো এই রাস্তা ভাদ্রা ইউপি সদস্য মো. মজিবর রহমান ওরফে সুনিল মেম্বারের সহযোগিতায় স্থানীয় দুই ভাই কবির ও নাছির দখল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, লক্ষীদিয়া কালিবাড়ি থেকে রহম মার্কেট পর্যন্ত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৯২ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান হারুন প্রথমবারের মতো এই রাস্তায় মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করেন। কিন্তু সম্প্রতি ইউপি সদস্য সুনিলের সহায়তায় কবির ও নাছির রাস্তার পাশে থাকা গাছ কেটে ফেলে এবং রাস্তাটির কিছু অংশ দখল করে নতুন রাস্তা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে প্রায় ৮ ফুট প্রস্থ ও ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের রাস্তার অংশ তাদের দখলে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য সুনিল শুধু এই রাস্তার বিষয়েই নয়, এলাকাজুড়ে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল, মাটি কেটে আবাদি জমি নষ্ট করা এবং মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত। স্থানীয়রা তাকে “মাটি খেকো মেম্বার” হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
মিন্টু মিয়া, যার জমি রাস্তার কাজে দখল হচ্ছে বলে অভিযোগ, বলেন— “আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ বছরের পুরাতন সরকারি রাস্তা সরিয়ে দিয়ে আমাদের জমি দখল করা হচ্ছে।” এ বিষয়ে তিনি উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে কবির ও নাছির দাবি করেন, তারা তাদের নিজস্ব জমিতেই কাজ করছেন এবং সুনিল মেম্বারের নির্দেশে রাস্তার গাছ কেটে মাটি সরিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আজম মিয়া জানান, সরকারি অর্থে তৈরি হওয়া রাস্তাটি সরানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কবির ও নাছির বারবার তার কাছে রাস্তা সীমানা ঘেঁষে নির্মাণের জন্য অনুরোধ করেছে।
ভাদ্রা ইউপি সদস্য সুনিল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন— “তাদের গাছ তারা কেটেছে। রাস্তার বিষয়ে আমি কিছু বলবো না, যা খুশি আমার বিরুদ্ধে লিখুন।”