খবরবাংলা ডেস্ক :
বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিদেশে পাচার বা চুরির অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, সমুদ্রের নিচে বিশেষ ড্রিলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের গ্যাস অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে বাস্তব চিত্র বলছে, সমুদ্রসীমা জয়ের এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বঙ্গোপসাগরে বাণিজ্যিকভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রের ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রের ১১টিসহ মোট ২৬টি ব্লক থাকলেও এখন কোনো বিদেশি কোম্পানি অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে না।
এর আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠান কনোকোফিলিপস, অস্ট্রেলিয়ার স্যান্তোস, দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু এবং ভারতের ওএনজিসি ভিদেশ বিভিন্ন সময়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিলেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কাজ গুটিয়ে নেয়। সর্বশেষ ওএনজিসিও দ্বিতীয় কূপ খনন না করেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ আন্তর্জাতিক দরপত্রে সাতটি বিদেশি কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়ে নথি সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়নি। ফলে নতুন করে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) সংশোধন করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন না বাড়ায় বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান হারে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে এবং শিল্পকারখানাসহ বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গ্যাস চুরি সংক্রান্ত দাবিগুলো যাচাইযোগ্য তথ্য ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত পুনরায় শুরু করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আবিষ্কৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।











