মাসুদ রানা
,
বাসাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া অনলাইন ওয়ারিশান সনদ তৈরির অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাসাইল সদর, কাউলজানী ও কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়ের করা পৃথক এজাহারের ভিত্তিতে বাসাইল থানা পুলিশ প্রতারণা ও জালিয়াতির ধারায় এ মামলাগুলো রুজু করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকৃত ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে ভুয়া ওয়ারিশান সনদের ফটোকপি ব্যবহার করে নামজারির আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ভূমি অফিস থেকে অনলাইনে ওয়ারিশান সনদ যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
বাসাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সোহেল মিয়ার দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাইকানীবাড়ী গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৩৫) সহ ৫ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১ আসামির বিরুদ্ধে জাল ওয়ারিশান সনদ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামিরা মৃত আমিনুল ইসলামের অন্যান্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে এবং তথ্য গোপন করে ইউপি সদস্য ও সচিবের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে সনদ তৈরি করে নামজারির চেষ্টা করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাসাইল থানায় মামলাটি (মামলা নং- ১১) নথিভুক্ত হয়।
কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আতাউল গনি হাবিবের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়, কাউলজানী গ্রামের লিয়াকত আলী খান (৪২), শাহীন খান (৬২), শাহ আলম খান (৬২) ও শাহানুর খান (৬০)—এই চার ভাই মিলে অন্য বৈধ ওয়ারিশদের (বোনদের) বঞ্চিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন জমা দেন। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেন। গত ৩ অক্টোবর বাসাইল থানায় এ সংক্রান্ত মামলা (মামলা নং- ০২) দায়ের করা হয়।
অপরদিকে কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রমজান মিয়ার দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিজয় সরকার (২৮) সহ ৫ জন এজাহারনামীয় ও ১ জন অজ্ঞাতনামা আসামি মিলে মৃত মনিন্দ্র সরকারের প্রকৃত ওয়ারিশদের গোপন করে জাল সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারণামূলক ওয়ারিশান সনদ তৈরি করেন। এই সনদ দিয়ে ভূমি অফিসে নামজারি করতে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) যাচাই করে সত্যতা পান। গত ১৪ অক্টোবর বাসাইল থানায় মামলাটি (মামলা নং- ০৮) নথিভুক্ত করা হয়।
প্রতিটি মামলাতেই “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩”-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান মুনসীফ বলেন, জাল বা ভুয়া দলিল ও ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে জমি দখলের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিস কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ভূমি জালিয়াতির অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই জমি সংক্রান্ত দলিল প্রস্তুত ও নামজারি আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জাল কাগজপত্র প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভূমির প্রকৃত মালিক ও বৈধ ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।











