খবর বাংলা ডেস্ক :
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া রাইসা মনি নামের আট বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ দীর্ঘ ৪৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নদীতীর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। মর্মান্তিক এই সলিল সমাধির শিকার রাইসা মনি উপজেলার কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকার রাশেদুল ইসলামের মেয়ে এবং সে স্থানীয় কাঁচকোল বাজার নবীজান নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত রবিবার বিকেলে সমবয়সী বেশ কয়েকজন শিশুর সঙ্গে আনন্দ করে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়েছিল রাইসা মনি। এক পর্যায়ে নদের কিনারা থেকে সাঁতার কেটে কিছুটা গভীর জলের দিকে চলে গেলে তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে পানিতে তলিয়ে যায় সে।
ওই সময় সাথে থাকা অন্য শিশুরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে শিশুরা দ্রুত ওপরে উঠে এসে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে গ্রামবাসী নদে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর পেয়ে চিলমারী ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং পরদিন সোমবার সকালে রংপুর থেকে একটি বিশেষ ডুবুরিদল এসে এই অভিযানে যোগ দেয়।
ডুবুরিদল ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে প্রায় ছয় ঘণ্টা নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দফায় শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৪৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে কেডিওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের নদীতীরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে সেটি নিখোঁজ রাইসা মনির নিথর দেহ বলে শনাক্ত করা হয় এবং খবর পেয়ে স্বজনরা কান্নাভেজা চোখে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি তীরে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাইসা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদলের সঙ্গে সমন্বয় করে দিনরাত উদ্ধারকাজে অক্লান্ত সহযোগিতা করেছেন। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে সম্মিলিত উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











