খবর বাংলা ডেস্ক :
নেত্রকোনা জেলার হাওরবেষ্টিত মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি ও মদন উপজেলাগুলোকে নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নেত্রকোনা-৪ আসন। বর্ষাকালে গ্রামগুলো যেন ছোট ছোট দ্বীপে পরিণত হয়, আর হেমন্তে পানি নেমে আসে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। এই প্রকৃতির সাথে মানুষের জীবনযাত্রা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ১৯৯১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত বাবর ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।
বাবরের রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে না থাকলেও তিনি ভোটের মাঠে শক্তিশালী প্রার্থী। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দিয়েছে, পাশাপাশি তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি কৌশল, এবং শেষ পর্যন্ত স্ত্রী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে বাবরের পক্ষে অবস্থান নেবেন।
নেত্রকোনা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও কয়েকজন প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার, সিপিবি’র প্রার্থী জলি তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুখলেছুর রহমান।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার অনেকেই বাবরকে এই আসনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। একাধিক ভোটার বলেছেন, “বাবর আগে এমপি থাকাকালীন অসাধারণ উন্নয়ন করেছেন। আমরা আবার তাঁকে সংসদে পাঠাতে চাই। কোনো মার্কা নয়, আমাদের কাছে বাবরই ভোটারদের পরিচিত মুখ।”
জামায়াতের আল হেলাল তালুকদার জানিয়েছেন, “আমরা ভোটের মাঠে ভালো সাড়া পাচ্ছি। তরুণ প্রজন্ম মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সঙ্গে আছে। আশা করছি, বিপুল ভোটে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেত্রকোনা-৪ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি বনাম জামায়াত, তবে সব মিলিয়ে ভোটের মাঠে এখনও আধিপত্য ধরে রেখেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











