মধুপুর
,
সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষে ব্যতিক্রমী সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক ছানোয়ার হোসেন। তার হাতে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ সূর্যমুখী বাগান শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করেনি, বরং স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
মহিষমারা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ শুরু করে ছানোয়ার হোসেন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং সঠিক পরিচর্যা ব্যবস্থার মাধ্যমে অল্প খরচে বেশি ফলন অর্জন করেছেন। তিনি জানান, ধান বা অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে পানির প্রয়োজন কম এবং সার ও কীটনাশকও সীমিত ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া, সূর্যমুখী গাছ খরা সহনশীল হওয়ায় মধুপুরের পাহাড়ী মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ মানানসই।
ছানোয়ার হোসেনের বাগান প্রতিদিনই শিক্ষার্থী, দর্শনার্থী ও স্থানীয় কৃষকদের ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তিনি নিজ উদ্যোগে কৃষকদের চাষপদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করছেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলার পাহাড়ী এলাকায় ২৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হেক্টর বেশি। সূর্যমুখী তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, এতে ওমেগা-৬, ওমেগা-৯, অলিক এসিড, ভিটামিন-ই এবং ভিটামিন-কে রয়েছে। এই তেল অন্যান্য তেলের তুলনায় স্বাস্থ্যসম্মত ও লাভজনক।
কৃষক ছানোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ও উদ্ভাবনী কৃষি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি কৃষি স্বর্ণপদকও অর্জন করেছেন। তার মতে, নতুন ফসলের চাষ এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার কৃষিকে লাভজনক করে তুলতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। ছানোয়ার হোসেনের সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে।”
ছানোয়ার হোসেনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে মধুপুরের আরও অনেক কৃষককে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।











