,
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি :
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ঘোষপাড়া এলাকার ভাসানী মেসে প্রথম বর্ষের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের তিন শিক্ষার্থী—লোমান, নাজমুল ও আদনান এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাইফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের মারধর করেন বলে জানা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সিপিএস, আইসিটি, গণিত, পরিসংখ্যান ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষ, প্রথম সেমিস্টারের আটজন শিক্ষার্থীকে ভাসানী মেসের একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং বেল্ট দিয়ে মারধরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন এয়ারপ্লেন মোডে চালু করে জমা রাখতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, “আমার মেসে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নোমান ভাই বাইরের একটি মেস থেকে একই বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী—নাজমুল ভাই ও আদনান ভাইকে—আমাদের র্যাগ দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন। সেখানে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাইফ ভাইও ছিলেন।আমাদের মেসে আইসিটি, পরিসংখ্যান, হিসাববিজ্ঞান, গণিত ও সিপিএস বিভাগের প্রথম বর্ষের মোট আটজন নবীন শিক্ষার্থী ছিলাম। পরে আমাদের চা খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । এ সময় গণিত বিভাগের দুইজন ইমিডিয়েট সিনিয়র ভাই আমাদের দেখে সন্দেহ করেন। পরে তারা বিষয়টি অন্যদের জানান। এরপর বিভিন্ন বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নোমান ভাইকে মারধর করেন।”
আইসিটি বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লাবণ্য বলেন “আমি আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী। আমরা ভাসানী মেসে থাকি। একপর্যায়ে আমাদের মেসের বাইরে ডাকা হয়। সেখানে আমাদের মেসের আদনান ভাই (ম্যানেজমেন্ট বিভাগ) এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আরও দুইজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন আমাদের গালিগালাজ করেন এবং বেল্ট নিয়ে মারতে আসেন। এছাড়া হিসাববিজ্ঞান বিভাগের একজনও সেখানে ছিলেন। তবে তাদের আমরা চিনি না। উপস্থিত অন্যরা আমাদের মেসের সদস্য নন; শুধুমাত্র আদনান ভাই আমাদের মেসে থাকেন।”
গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষ, প্রথম সেমিস্টারের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাখায়াত বলেন, “গতকাল মেসের মিল চালু করার বিষয়ে কথা হবে এমন কথা বলে লোমান ভাই আমাদের প্রথম বর্ষ, প্রথম সেমিস্টারের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের তাঁর রুমে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর রুমে বাইরে থেকে আসা তাঁর আরও চারজন ব্যাচমেট অপেক্ষা করছিলেন। তারা খাটে বসে ছিলেন এবং আমাদের ফ্লোরে বসান।
রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে আমাদের রুমে ঢোকানো হয়। এরপর আমাদের সবার মোবাইল ফোন এয়ারপ্লেন মোডে চালু করে তাদের কাছে জমা রাখতে বলা হয়। তারপর তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বেল্ট দিয়ে মারতে আসেন। আমরা ঠিকমতো সালাম দিইনি—এ বিষয়টি নিয়েও তারা আমাদের গালিগালাজ করেন। এছাড়া বারবার পরিচয় দেওয়ার নামে ভুল ধরেও বিভিন্নভাবে অপমান ও গালিগালাজ করা হয়।প্রায় এক ঘণ্টা আমাদের আটকে রাখা হয়। পরে আমাদের বের করে দেওয়া হলেও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের প্রথম বর্ষ, প্রথম সেমিস্টারের হাবিব নামের আরেক শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে আটকে রাখা হয়।”
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুল কুদ্দুস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর র্যাগিংয়ের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী লোমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাইফ বলেন, “বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে পরে জানাব।” প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত অন্য শিক্ষার্থীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং তদন্তে র্যাগিংয়ের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিভাগের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”










