খবর বাংলা ডেস্ক :
যশোরের শার্শায় নামের মিল থাকার অজুহাতে এক রাজনৈতিক নেতার পরিবর্তে মোহা. আসাদুজ্জামান নামে এক প্রবীণ সাংবাদিক ও সাবেক কলেজ শিক্ষককে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নেতার বদলে সাংবাদিক গ্রেপ্তার! আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস মো. আসাদুজ্জামান আসাদ দাবি করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে।
তবে আইনজীবী ও পরিবার নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামান এক সময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের প্রদর্শক ছিলেন এবং বর্তমানে শুধু সাংবাদিকতা করেন। তিনি এক সময় আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক থাকলেও, ২০২৩ সালে কলেজ সরকারি হওয়ার পর রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যান এবং ৫ আগস্টের পর হলফনামার মাধ্যমে দল থেকে পদত্যাগ করেন। প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক।
মধ্যরাতে দেয়াল টপকে অভিযান আসাদুজ্জামানের বোন শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, রবিবার রাত ২টার দিকে পুলিশ দেয়াল টপকে তাদের জামতলার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে আটক করে। এর প্রতিবাদ করায় আসাদুজ্জামানের ভাগনে শাহরিয়ার সাদাব তরঙ্গকেও পুলিশ মারধর করে আটক করে এবং বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে যায়।
সোমবার বিকেলে আসাদুজ্জামানকে যশোরের আদালতে তোলা হলে অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আছাদুল ইসলাম জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই মামলায় কায়বা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকুকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের হাতে রাজনৈতিক নেতার সাথে একই হাতকড়া পরানোয় ক্ষোভ জানান সহকর্মীরা।
মামলার বাদীও চেনেন না এই সাংবাদিককে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবরের এই মামলার বাদী শার্শা ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আয়নাল হক ঢাকা থেকে টেলিফোনে জানান, তিনি এই সাংবাদিককে চেনেনই না।
তার মামলাটি ছিল সাবেক এমপির এপিএস আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে। আয়নাল হক আরও বলেন, তিনি নিজে ঘটনার বিবরণ দেখেননি; ওসি ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে ভিডিও দেখিয়ে থানায় ডেকে এনে মামলা করতে বলেছিলেন।
সাংবাদিকদের ক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি: সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। বেনাপোল ও শার্শার একাধিক প্রেস ক্লাব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বেনাপোল বন্দর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, “সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া—এই দৃশ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কলম সৈনিকদের সাথে এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় প্রশ্ন।”
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











