সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াছ এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সখীপুর পৌরসভার ছোট চওনা এলাকার মো. খোরশেদ আলমের ছেলে মো. শহীদ এবং সখীপুর থানার তেলধারা (বাঘবেড়কুলিয়া) গ্রামের অজুফা বেগম। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শহীদকে ধর্ষণের দায়ে এবং অজুফা বেগমকে ধর্ষণে সহায়তার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপহরণের দায়ে একই আইনের ৭ ধারায় সখীপুরের বড় চওনা (কেলকুড়ি) গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. ইসমাইল এবং কচুয়া গ্রামের মো. মজিবার রহমানের ছেলে মো. আ. রহমানকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলা চলাকালে অপর আসামি মো. বাবুল মারা যাওয়ায় তাকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমারাও খান দিপু জানান, ২০২০ সালের ১৮ মে রাতে ভুক্তভোগী সখীপুরের কীর্তনখোলায় তাঁর মায়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন। পরে তাঁকে একটি স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগী উদ্ধার হওয়ার পর সখীপুর থানায় অভিযোগ করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবুল আকতার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
বিচারকাজ চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ভুক্তভোগীর জবানবন্দি, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন, সুরতহাল প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করেন। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে আদায় করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।











