সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় সুচিত্র বর্মণ (৫৫) হত্যা মামলার রহস্য প্রায় চার মাস পার হলেও এখনো পুরোপুরি উদঘাটন হয়নি। মামলার সর্বশেষ অগ্রগতিতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে মৃত্যু উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
নিহত সুচিত্র বর্মণ সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির পাশের তিন শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুদিন আগে সুচিত্র বর্মণ সখীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। পরিবারের ধারণা, ওই জমি বিরোধের সঙ্গেই তার মৃত্যুর যোগসূত্র থাকতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সুচিত্র বর্মণ। ছয় দিন পর, ২৩ জানুয়ারি তার গ্রামের একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেসময় তার গলায় মাফলার পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় তার ছেলে সুধীর বর্মণ অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী সুধীর বর্মণ বলেন, ঘটনার সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তিনি কারও নাম উল্লেখ করতে পারেননি। তবে জমি নিয়ে বিরোধ থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাদের সন্দেহ রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যু পানিতে ডুবে হয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিবাস চক্রবর্তী জানান, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলা হয়েছে। তবে নতুন প্রতিবেদনের পর এখন পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।











