খবর বাংলা ডেস্ক :
কক্সবাজারের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল (ভেটকি) মাছ। একদিনের জালেই ধরা পড়ে ৬৭ মণ ১০ কেজি ওজনের এসব মাছ, যা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকায়। ধরা পড়া মাছের সংখ্যা ছিল ৬৮৭টি, প্রতিটির গড় ওজন দুই থেকে চার কেজির বেশি।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মৌলভীর শীল এলাকা সংলগ্ন সাগরে মোহাম্মদ জাকারিয়া (৪০) মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে এই মাছ ধরা পড়ে।
ট্রলার মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, একদিন আগে ট্রলারটি শাহপরীর দ্বীপ থেকে সাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে ট্রলারটিতে মোট ৯ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর পাশের চ্যানেলে সন্ধ্যার পর জাল ফেলা হয়। পরদিন সকালে জাল তুলতেই একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে।
তিনি আরও জানান, ধরা পড়া মাছের মধ্যে ১০টি নিজেদের জন্য রেখে বাকি ৬৭৭টি মাছ বিক্রি করা হয়েছে। শুরুতে প্রতি মণ মাছ ২৩ হাজার টাকা দরে মোট ১০ লাখ টাকায় মাছগুলো বিক্রি হয়।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ বলেন, মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাটে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হবে।
তিনি জানান, লাল কোরাল বা ভেটকি মাছের চাহিদা সারা দেশেই ব্যাপক। গভীর সমুদ্রের এই মাছ নিয়মিত বাজারে না পাওয়ায় এর দাম তুলনামূলক বেশি থাকে।
সেন্ট মার্টিন ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আজিজ বলেন, সেন্ট মার্টিন চ্যানেল এলাকায় প্রায়ই লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছ কম থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে অন্যান্য জেলেরাও ওই এলাকায় জাল ফেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা জানান, লাল কোরাল বা ভেটকি মাছ একটি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer। সাধারণত মাছটির ওজন এক থেকে নয় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং এটি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বেশি পাওয়া যায়।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ










