খবরবাংলা ডেস্ক :
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পুলিশ ওই গৃহবধূ ও তার দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে।
ঘটনাটি উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে ঘটেছে। আটক নাজমুল ওই গ্রামের নওয়াব আলী শেখের ছেলে। নির্যাতনের শিকার সোনিয়া (২৫) মুন্সীগঞ্জের চরমুসুরিয়া এলাকার লোকমান সরকারের মেয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করতেন। সোমবার রাতে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নাজমুল ঘরে তালা দিয়ে সোনিয়ার হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে দেন। অভিযোগ রয়েছে, দুই শিশুসন্তানের সামনেই তাকে রাতভর নির্যাতন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে সোনিয়া ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়। আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার সোনিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মারধর করতেন। সর্বশেষ সোমবার রাতে দুই শিশুসন্তানের সামনে তাকে হাত-পা বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে, আটক নাজমুল পুলিশের কাছে দাবি করেন, স্ত্রী পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি তার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে দেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, নাজমুল একজন মাদকসেবী এবং তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন।
সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব জানান, ভুক্তভোগী ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











