মির্জাপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অর্থাভাবে স্বামীর কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে পারছেন না ফাহিমা আক্তার। স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় মির্জাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন ফাহিমা আক্তার। এ সময় তার স্বামী জহের আলী সিকদার এবং বড় মেয়ে যুথী আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তরফপুর গ্রামের বাসিন্দা জহের আলী সিকদার চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যা পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফাহিমা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তাকে বাঁচানোর জন্য আমি নিজের একটি কিডনি দিতে চাই। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৬ লাখ টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের সহৃদয় ব্যক্তি ও সরকারের সহযোগিতা পেলে আমার স্বামীকে নতুন জীবন দিতে পারব।”
জহের আলী সিকদার পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। তাদের পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের বড় ছেলে ফাহাদ অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের ব্যয় বহনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বড় মেয়ে যুথী আক্তার এইচএসসি পাস করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে জহের আলী সিকদার ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসা ও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরিবারটি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সহায়তা কামনা করেছে।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: ০১৩০১৫৯৬৬৪৩ (ফাহিমা আক্তার)।











