বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা মনোজ কুমার আর নেই। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ভোররাতে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।
মনোজ কুমারের ছেলে কুনাল কুমার গণমাধ্যমকে জানান, দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটে তিনি মারা যান। শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে শনিবার সকালে, মুম্বাইয়ের পবন হংসে।
মনোজ কুমারকে বলিউডে ‘ভারত কুমার’ নামে ডাকা হতো তাঁর দেশপ্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের কারণে। ‘উপকার’, ‘শহীদ’, ‘ক্রান্তি’, ‘রোটি কাপড়া অউর মাকান’-এর মতো সিনেমায় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দেশের জন্য ভালোবাসা। এই অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (২০১৬) এবং পদ্মশ্রী (১৯৯২)।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বলিউড তারকারা। অক্ষয় কুমার এক্স-এ লিখেছেন, “দেশপ্রেম কীভাবে সিনেমায় তুলে ধরতে হয়, তা শিখেছি মনোজ কুমারের কাছ থেকে।” লেখক মনোজ মুনতাশির বলেন, “তেরি মিট্টি লেখার পেছনে অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনিই।”
পরিচালক অশোক পণ্ডিত জানান, “মনোজ ছিলেন প্রাণবন্ত মানুষ। বলিউড তাঁর শূন্যতা অনুভব করবে।” আর বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁকে ‘বলিউডের গ্রামার বদলে দেওয়া দূরদর্শী নির্মাতা’ বলে শ্রদ্ধা জানান।
১৯৩৭ সালে বর্তমান পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে জন্ম মনোজ কুমারের। আসল নাম হরিকৃষ্ণন গোস্বামী। ১৯৫৭ সালে ‘ফ্যাশন’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। জনপ্রিয়তা পান ১৯৬১ সালের ‘কাচ কি গুড়িয়া’ সিনেমায়। এরপর ‘গুমনাম’, ‘উপকার’, ‘পত্থর কে সনম’, ‘সাধনা’সহ অসংখ্য হিট ছবিতে অভিনয় করেন।
১৯৯৫ সালে ‘ময়দান-ই-জং’ ছিল তাঁর অভিনীত শেষ ছবি। শুধু অভিনয় নয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও গল্প রচনায়ও রেখেছেন স্মরণীয় অবদান।
দেশপ্রেমই ছিল মনোজ কুমারের সবচেয়ে বড় পরিচয়—যা তিনি রেখে গেলেন অসংখ্য হৃদয়ে ও পর্দার ছবিতে।