থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে বাংলাদেশ জোরালোভাবে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উপস্থাপন করেছে। এ ধরনের কূটনৈতিক অবস্থান দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই সফরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মিয়ানমার সরকার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা এ ইস্যুতে এমন সিদ্ধান্তকে বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন
বর্তমান সরকারের কূটনীতিতে এক ধরনের গঠনমূলক ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নরম ও এড়িয়ে চলার কূটনীতি থেকে সরে এসে এবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কঠিন ও সংবেদনশীল ইস্যুগুলো স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তিস্তা চুক্তি ও সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রত্যর্পণের বিষয়টিও জোর দিয়ে তোলা হয়েছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে কাজ করছে একটি অভিজ্ঞ ও দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি দল, যারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জাতিসংঘে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এক কূটনীতিকের সম্পৃক্ততা সরকারের অবস্থানকে আরও বলিষ্ঠ করে তুলেছে। তাঁর নেতৃত্বে একাধিক অনানুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়া হয়, যা বেশ কিছু সময় ধরে অচল থাকা আলোচনাকে আবার সচল করে।
নতুন ধারার সূচনা
এই পরিবর্তন শুধু আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ নয়; বাস্তব সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতির মধ্য দিয়েও তা প্রতিফলিত হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি, তিস্তা ইস্যুতে দাবি পুনরুজ্জীবন এবং শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা—সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন এক নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার পথে এগোচ্ছে।
পুরনো কূটনৈতিক ধারার বাইরে এসে বাংলাদেশ এখন সরাসরি ও সাহসী অবস্থান নিচ্ছে। এটি শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল করছে না, বরং দীর্ঘদিনের জটিল ইস্যুগুলোর সমাধানে একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।