খবর বাংলা ডেস্ক :
সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনগুলোকে নিয়ে গঠিত দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে শিক্ষকসহ প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী সম্পৃক্ত রয়েছেন। পে স্কেল বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে আবারও সক্রিয় হচ্ছে সংগঠনটি।
পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আন্দোলনে নামেন। টানা কর্মসূচির মুখে সরকার কিছু পদক্ষেপ নেয় এবং এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচনের আগেই এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। অন্তর্বর্তী সরকার তখন জানায়, বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংগঠনটি আবার নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে জানান, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তারা নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদনও করা হয়েছে।
সংগঠনের আবেদনে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০১৫ সালের পে স্কেলকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে তারা দাবি করে, এরপর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও আগের সরকার তাদের দাবি আমলে নেয়নি। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল চালু, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, ভাতা পুনর্নির্ধারণ, রেশন ব্যবস্থা চালু, চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা পুনর্নির্ধারণ এবং কিছু বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক আদেশ বাতিলের কথা তুলে ধরেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের এই দাবিগুলো মানবিক বিবেচনায় দেখার জন্য তারা নতুন নেতৃত্বের কাছে সময় চান। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে, দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তারা তারেক রহমান–এর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহও জানিয়েছে, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











