টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
ফাগুনের ধারা বয়ে চৈত্র হয়ে বৈশাখের পথে এগোচ্ছে সময়, আর সেই সঙ্গে প্রকৃতিও সেজে উঠেছে নতুন রূপে। টাঙ্গাইলের শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই গাছে গাছে দেখা মিলছে কচি পাতার সবুজ সমারোহ। কয়েকদিন আগেও যেসব গাছ পাতাঝরায় ন্যাড়া হয়ে ছিল, এখন সেগুলো নব পল্লবে ভরে উঠেছে।
শীতের জীর্ণতা ঝরিয়ে বসন্তের হাওয়া আর কচি পাতার ছোঁয়ায় প্রকৃতি যেন ফিরে পেয়েছে প্রাণ। মেহগনি, গগনশিরীষ, জারুল, সোনাইল, কৃষ্ণচূড়া, কদম, আম, জামসহ বিভিন্ন গাছে গজিয়েছে নতুন পাতা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সবুজের অপার সৌন্দর্য।
এ সময় আম গাছে মুকুল, কাঁঠালে মুচি, জাম্বুরায় ফুল ও সজিনায় ডাঁটার উপস্থিতি গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্যকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। যেদিকে চোখ যায়, শুধু সবুজ আর সবুজ—যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে।
এই মনোরম পরিবেশে পথচারীরা থেমে তাকিয়ে থাকেন। নবদম্পতি ও তরুণ-তরুণীদের কাছেও কচি পাতার এই সমারোহ বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। শিশুরাও নতুন পাতাকে ঘিরে খেলার আনন্দ খুঁজে নিচ্ছে। বিকেলের নরম আলো আর ফুরফুরে হাওয়ায় দুলতে থাকা কচি পাতায় গ্রামাঞ্চলে তৈরি হচ্ছে অপূর্ব এক দৃশ্য।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্তী বলেন, বসন্তের আগুনঝরা ফাগুনে গাছে গাছে নতুন পাতা গজিয়ে চারপাশকে সজীব করে তুলেছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী জানান, নতুন সবুজ পাতার কারণে কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়েছে, যা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুবাইদা আক্তার লাকি বলেন, গাছে নতুন পাতা নতুন সময়ের বার্তা দেয় এবং জীবনে নতুন শুরুর অনুপ্রেরণা জোগায়।
কৃষি কর্মকর্তা এম কবির জানান, ফাল্গুন এলেই গাছে নতুন পাতা গজায়, যা পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার ঘটায়।











