টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখকে ঘিরে টাঙ্গাইলের মৃৎশিল্পীদের মধ্যে এখন ব্যস্ততার চিত্র। সারা বছর মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদা কম থাকলেও বৈশাখ এলেই বেড়ে যায় কাজের চাপ। তাই শেষ মুহূর্তে দিনরাত পরিশ্রম করে মাটির নানা তৈজসপত্র ও শিশুদের খেলনা তৈরি করছেন তারা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ তৈরি করছেন হাঁড়ি-পাতিল, কলস, পুতুল, খেলনা ও গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী। এরপর সেগুলো পোড়ানো ও রং করার কাজ চলছে পুরোদমে। এসব পণ্য বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মৃৎশিল্পীরা জানান, ফাল্গুন থেকে বৈশাখ—এই তিন মাসই তাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। তবে উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। অনেকেই জানান, মাটি, রং ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা তাদের আয় কমিয়ে দিয়েছে।
মৃৎশিল্পী বিষ্ণু পাল বলেন, “বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে পারি না। কিন্তু এখন মাটির জিনিসের চাহিদা আগের মতো নেই। আগে এক গাড়ি মাটি এক হাজার টাকায় কিনতাম, এখন পাঁচ-ছয় হাজার টাকা লাগে। তবুও বৈশাখের জন্য কাজ করছি।”
অন্যদিকে মৃৎশিল্পী গোলাপি পাল জানান, তিনি এ বছর শিশুদের জন্য প্রায় এক হাজার খেলনা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছোট হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, পশুপাখির মডেল, মাটির ব্যাংক, কাপ-প্লেটসহ নানা সামগ্রী। তিনি বলেন, “সারা বছর চাহিদা কম থাকলেও বৈশাখে বিক্রি ভালো হয়, তাই এখন সবাই ব্যস্ত।”
মৃৎশিল্পীদের মতে, প্লাস্টিক ও আধুনিক পণ্যের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাটির জিনিসের কদর অনেকটাই কমে গেছে। তবে পয়লা বৈশাখের গ্রামীণ মেলাগুলোতে এখনও এসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে, যা তাদের কিছুটা স্বস্তি দেয়।
নারী মৃৎশিল্পী মায়া রানী বলেন, “ছোটবেলা থেকে এই কাজ করছি। এখন বয়স হয়েছে, আগের মতো পারি না। আয়ও কম। সরকার সহযোগিতা করলে এই পেশা টিকে থাকতো।”
টাঙ্গাইল জেলা বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম জানান, মৃৎশিল্প বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প হলেও বর্তমানে তা বিলুপ্তির পথে। এক সময় জেলায় এক হাজারের বেশি মৃৎশিল্পী থাকলেও এখন সংখ্যাটি অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, মৃৎশিল্পীরা আগ্রহ দেখালে তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে।
মৃৎশিল্পীরা আশা করছেন, সরকারি সহযোগিতা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।











