মধুপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবন একসময় ছিল শাল-গজারিসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ ও বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধ আবাসস্থল। প্রায় ৪৫ হাজার ৫৬৫ একর আয়তনের এই বনভূমিতে ছিল ৬৩ প্রজাতির গাছপালা এবং চিতাবাঘ, হরিণ, বানরসহ নানা প্রাণীর বিচরণ। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ বনাঞ্চলের ২৬ হাজার ৯৩৫ একর জমি এখন বেহাত হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক বন রয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৭৫৬ একর, সামাজিক বনায়ন ৬ হাজার ১৭৯ একর এবং প্রায় ১৯ হাজার ১৩৫ একর বনভূমি রয়েছে বিভিন্ন দখলদারের দখলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিনব কৌশলে গজারি গাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রথমে গাছের গোড়া পরিষ্কার করে এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত ছাল তুলে ফেলা হয়। এরপর গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, ফলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে গাছটি মারা যায়। এই পদ্ধতিতে আনারস ও কলা বাগান তৈরির জন্য বনভূমি ফাঁকা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দোখলা ও আমলীতলা এলাকায় একসময়ের ঘন বনভূমি এখন আনারস ও কলা বাগানে পরিণত হয়েছে। গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে গাছ নিধনের চিহ্ন সহজে ধরা না পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিএমসি সদস্য ও দখলদারদের যোগসাজশে এই বন ধ্বংস ত্বরান্বিত হচ্ছে। সামাজিক বনায়নের নামেও বনভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।
মধুপুর বনাঞ্চলের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে গজারি গাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। আনারস ও কলা চাষের জন্য বনভূমি দখল করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দোখলা রেঞ্জের কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে স্থানীয়দের প্রতিরোধের আশঙ্কায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মধুপুর শালবন তার অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।











