টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
“প্লাস্টিক জমা দিন, পরিবেশবান্ধব গাছ নিন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে টাঙ্গাইলের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘যুবদের জন্য ফাউন্ডেশন’। শনিবার (১১ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহরের জেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
পরিবেশ দূষণ রোধ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয় এই ভিন্নধর্মী কর্মসূচি। দিনব্যাপী কার্যক্রমে কয়েক শতাধিক মানুষ পুরনো প্লাস্টিক বোতল ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য জমা দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সংগ্রহ করেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফলজ, বনজ, ওষুধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা। এতে করে একদিকে যেমন প্লাস্টিক বর্জ্য কমছে, অন্যদিকে সবুজায়নেও উৎসাহ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, বাড়িতে জমে থাকা প্লাস্টিক যে গাছের চারায় রূপান্তর হবে, তা কখনো ভাবেননি। তিনি এটিকে একটি অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থী পপি আক্তার জানান, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি গাছ সংগ্রহের সুযোগ পাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী স্মরণ সাহা বলেন, বাসার পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করতে পেরে তিনি আনন্দিত।
সংগঠনের সভাপতি মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় সম্পৃক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সাগরে গিয়ে জমা হয় এবং এসব প্লাস্টিক মাটির সঙ্গে মিশতে ৫০০ থেকে ১০০০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। তাই এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব আচরণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
এ কর্মসূচিতে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সমন্বয়কারী জোবায়দুর রহমান হৃদয়, সদস্য আলফি ইসলাম, রাজ চৌধুরী, ইয়াদ জিহাদ, পপি আক্তারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ভবিষ্যতে দেশের ২১টি জেলা এবং টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাদের লক্ষ্য প্রতিটি জেলা শহরকে প্লাস্টিকমুক্ত ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করা। সুশীল সমাজ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছে, এমন কার্যক্রমে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে দেশের পরিবেশ রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











