কালিহাতী সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বদলি হওয়ার পরও দায়িত্ব ও চার্জ বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বদলির আদেশের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও তিনি দায়িত্ব না ছাড়ায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল এক দাপ্তরিক আদেশে কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেনকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এবং ভূঞাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সানোয়ার হোসেনকে কালিহাতীতে বদলি করা হয়।
নতুন উপজেলা প্রকৌশলী মো. সানোয়ার হোসেন গত ১২ এপ্রিল নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে যোগদান করেন এবং আরিফ হোসেন ১৩ এপ্রিল চকরিয়ায় যোগদান দেখান। তবে কাগজে-কলমে বদলি সম্পন্ন হলেও বাস্তবে আরিফ হোসেন এখনো কালিহাতী অফিসের দায়িত্ব ও চার্জ বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, চলতি অর্থবছরে কালিহাতী-পারখী সড়কের ৩০ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ‘তরফদার এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬২ লাখ টাকা অগ্রিম বিল দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সুরুজ-ধলাপাড়া সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। পরে ওই ফাটলগুলো বালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের কাজ থাকা সত্ত্বেও ‘দাস এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব কাজ নিয়ে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
নতুন যোগদানকারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেও এখনো দায়িত্ব ও চার্জ বুঝে পাননি। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ হোসেন বলেন, চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশের পদোন্নতির কারণে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কিছুটা সময় লাগছে। তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেই কালিহাতীর দায়িত্ব নতুন প্রকৌশলীর কাছে হস্তান্তর করবেন। ঘুষ গ্রহণ বা অনিয়মের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন।











