মির্জাপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তিন ফসলি জমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বহনতলী, নিশ্চিন্তপুর ও মুশুরিয়াঘোনা গ্রামে প্রায় দুই মাস ধরে দিনে-রাতে অবাধে মাটি কাটছে একটি চক্র। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফতেপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষিজমি থেকে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। বহনতলী গ্রামের পূর্বপাশ এবং নিশ্চিন্তপুর গ্রামের পশ্চিমপাশে শত একরের বেশি তিন ফসলি জমিতে দুই থেকে আড়াই ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী একটি চক্র এই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। তারা নিজেদের জমির পাশাপাশি অন্যদের জমির মাটিও প্রভাব খাটিয়ে কেটে নিচ্ছে। ভয়ের কারণে এলাকার মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
ট্রাকচালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিন-রাত দুই শিফটে ট্রাকযোগে এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশের উপজেলা থেকেও ট্রাক এনে মাটি বহন করা হচ্ছে।
মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত মেছের আলী দাবি করেন, তারা বাঁধ নির্মাণ ও কবরস্থান ভরাটের জন্য মাটি কাটছেন। তবে ট্রাকে করে ইটভাটায় মাটি নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো জবাব দেননি। মাটি কাটার অনুমতির কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি তারা।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটিতে ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এই মাটি কেটে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে জমির উর্বরতা কমে যাবে এবং কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন না।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভাশীষ কর্মকার জানান, বিষয়টি বন্ধে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে অনুমতি নেওয়ার দাবি সঠিক নয়। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











