টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলে ব্র্যাকের ঢাকা বিভাগীয় বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগের প্রতি ৮ জন বাসিন্দার মধ্যে অন্তত ১ জন ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবা ও সহায়তার আওতায় এসেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের চিফ ফাইন্যান্স অফিসার সাব্বির আহমেদ পরিকল্পনা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আদিবুল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন, অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা প্রদান করেছে ব্র্যাক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ঢাকা বিভাগে ১৭ হাজার ৯০৯টি অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭২৫টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৬ জন।
ব্র্যাকের আর্থিক সেবার আওতায় ঢাকা বিভাগের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এসেছে। ক্ষুদ্রঋণ সুবিধাভোগীদের প্রায় ৮৬ শতাংশই নারী।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে ৩ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ সেবা ও সচেতনতামূলক বার্তা পেয়েছেন। একই সময়ে ১ লাখের বেশি গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং ২৫ হাজার ৪৭৫টি নিরাপদ প্রসবে সহায়তা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৯০ হাজার ২৮৮ জন।
এছাড়া টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ ব্র্যাকের আর্থিক ও সচেতনতামূলক সেবা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে ১৮ হাজার ৭৬৮ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭০ হাজারের বেশি মানুষ অভিবাসন সচেতনতা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন।











