ধনবাড়ী সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টার এখন একটি বৈচিত্র্যময় উদ্যান ও কৃষি সম্ভাবনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাতৃগাছ, উন্নত ফলের বাগান এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন অর্জন করেছে।
সেন্টার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এখানে ১২৭ প্রজাতির দেশি ও বিদেশি মাতৃগাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র আমেরই রয়েছে ৩৮টি উন্নত জাত। বারমাসি কাটিমন, বারি-১১, মিয়াজাকি, ব্রুনাই কিং, কিং অব চাকাপাত, নাম ডক মাই, গৌড়মতি ও ব্ল্যাক স্টোনের মতো বিদেশি জাতের পাশাপাশি ল্যাংড়া, হাড়িভাঙ্গা ও হিমসাগরের মতো জনপ্রিয় দেশি জাতও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্টারের বিভিন্ন অংশে গড়ে তোলা হয়েছে মসলা ও ফলের বাগান। এখানে দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, চুইঝাল, লবঙ্গ, জয়ফল ও অলস্পাইসসহ নানা মসলার গাছ রয়েছে। পাশাপাশি ভিয়েতনামি আঠাবিহীন কাঁঠাল, অ্যাভোকাডো, স্টার অ্যাপেল, ম্যাকাডেমিয়া, ডুরিয়ানের মতো উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলও চাষ করা হচ্ছে।
এছাড়া এখানে শতাধিক অ্যারাবিকা কফি গাছ, ড্রাগন ফল, কাশ্মিরি আনার, লিচু, লটকন, কোকো ও জি-৯ কলাসহ বিভিন্ন ফলের চাষ রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন অর্কিড, ক্যাকটাস, বনসাই ও ইনডোর প্ল্যান্ট সেন্টারটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পাশাপাশি অর্জুন, নিম ও বহেরার মতো ঔষধি গাছও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
সেন্টারের নিজস্ব মাতৃগাছ থেকে উৎপাদিত চারা ও কলম সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি থেকে। মাশরুম উৎপাদন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এটি এখন শুধু চারা উৎপাদন কেন্দ্র নয় বরং একটি জীবন্ত জার্মপ্লাজম সংরক্ষণাগারে পরিণত হয়েছে। টিস্যু কালচার ল্যাব চালু হলে কৃষি ও অর্থনীতিতে আরও বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।











