কালিহাতী সংবাদ দাতা
কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে টাঙ্গাইলে আবারও দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। বাড়তি প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয়, অর্থসংকট এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। লোকসানের মুখে পড়ে কালিহাতী উপজেলার এক ব্যবসায়ী সংগ্রহ করা চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলার বল্লা এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী রহিজ আলী বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে কোনো পাইকার বা আড়তদার চামড়া কিনতে না আসায় তিনি চামড়াগুলো সংরক্ষণ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার বল্লা সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত লাঙ্গুলিয়া নদীতে কয়েকটি গরুর চামড়া ফেলে দেন। এতে তার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্য মূলত লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় আড়তদাররা ন্যায্যমূল্য দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এদিকে জেলার অন্যতম বৃহৎ চামড়ার বাজার ঘাটাইলের পাকুটিয়া হাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। কাঁচা চামড়ার সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল সীমিত। হাটে আসা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক দামও অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে না।
চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, লবণ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছে বড় আড়তদারদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকায় নগদ অর্থের সংকটও তৈরি হয়েছে। ফলে চামড়া কেনাবেচায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং কাঁচা চামড়ার বাস্তবসম্মত মূল্য নিশ্চিত না করা গেলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চামড়া শিল্প আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সরকারিভাবে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হয়েছে এবং কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।











