খবরবাংলা ডেস্ক :
চীন সফরের বিভিন্ন দিক, উদ্যোগ ও অর্জন সম্পর্কে জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চীন সফরে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন। গত ২৫ আগস্ট তিনি চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।
সফরকালে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
২৬ আগস্ট গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজে’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও বৃত্তি বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং কারিগরি শিক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পায়।
একই দিন গুয়াংজুর সাউথ চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সফরকালে ২৭ আগস্ট কিংইউয়ান শহরের গুয়াংডং ভোকেশনাল সিটিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে চীনের জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক পাঠ্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আসে ২৮ আগস্ট চীনের জিয়াংসি প্রদেশে অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে। সেখানে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার এবং বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ, গবেষণা, শিল্প প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
সফর শেষে ৩০ আগস্ট এক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী জানান, চীনের শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মডেল বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায়ও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো এবং চীনে কর্মরত ভাষাশিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী চীন সফরের এসব উদ্যোগ, দুই দেশের শিক্ষা ও কারিগরি খাতের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং সফর থেকে পাওয়া বিভিন্ন অর্জন ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











