শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
Khabar Bangla 24
No Result
View All Result
  • Login
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • জাতীয়
  • ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  • স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
  • অন্যান্য
    • অপরাধ ও দুর্নীতি
    • দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা
    • প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ
    • সংস্কৃতি ও বিনোদন
    • আইন আদালত
    • কৃষি ও কৃষক
    • সারাদেশ
  • টাঙ্গাইল জেলা
    • কালিহাতী
    • গোপালপুর
    • ঘাটাইল
    • টাঙ্গাইল সদর
    • দেলদুয়ার
    • ধনবাড়ী
    • নাগরপুর
    • বাসাইল
    • ভূঞাপুর
    • মধুপুর
    • মির্জাপুর
    • সখিপুর
আর্কাইভ
Khabar Bangla 24
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • জাতীয়
  • ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  • স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
  • অন্যান্য
    • অপরাধ ও দুর্নীতি
    • দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা
    • প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ
    • সংস্কৃতি ও বিনোদন
    • আইন আদালত
    • কৃষি ও কৃষক
    • সারাদেশ
  • টাঙ্গাইল জেলা
    • কালিহাতী
    • গোপালপুর
    • ঘাটাইল
    • টাঙ্গাইল সদর
    • দেলদুয়ার
    • ধনবাড়ী
    • নাগরপুর
    • বাসাইল
    • ভূঞাপুর
    • মধুপুর
    • মির্জাপুর
    • সখিপুর
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Khabar Bangla 24
Home মতামত

ডাকসুর দেয়ালে ইতিহাস, ছবি ছিঁড়ে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত?

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ — আশ্বিন ৪, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ২:৫৬ অপরাহ্ণ
in মতামত
A A
ডাকসুর দেয়ালে ইতিহাস, ছবি ছিঁড়ে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত?

ডাকসুর দেয়ালে ইতিহাস, ছবি ছিঁড়ে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত?

প্রতিবেদন:
বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিতর্ক যেন আবারও ফিরে এসেছে একটি প্রতীকী জায়গায়—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায়।

সংস্কারের পর ১৩ সেপ্টেম্বর ডাকসুর আর্কাইভটি খুলে দেওয়া হয়। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন স্থান পায়। এরপরই শুরু হয় প্রতিবাদ। ১৪ সেপ্টেম্বর এক সাবেক শিক্ষার্থী জিন্নাহর দুটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। পরদিন একদল শিক্ষার্থী ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি রেখে প্রতিবাদ করেন।

আরও পড়ুন

হাসিনাকে দেওয়া কথা কি রাখবেন শুভেন্দু

ব্যাংক খাতের সংস্কার নাকি পুরোনো শক্তির পুনর্বাসন

ঘটনাটি নিছক একটি ছবি রাখা বা সরানোর প্রশ্ন নয়। এর মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ইতিহাসের বিতর্কিত চরিত্রদের কি ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখানো হবে, নাকি তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বাদ দেওয়া হবে?

ইতিহাসের নথি মুছে ফেলার মাধ্যমে ইতিহাস বদলায় না। বরং একটি ঐতিহাসিক চরিত্রকে বোঝার জন্য তার বক্তব্য, কর্মকাণ্ড, সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ—সবকিছু একসঙ্গে দেখতে হয়।

জিন্নাহর ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার প্রশ্ন তার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। কারণ তিনি ১৯৪৮ সালেই মারা যান। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রটি কেমন হবে—বিশেষ করে ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে—তার অবস্থান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা। প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি। একই বছর মার্চে ঢাকায় এসে জিন্নাহ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁর এই অবস্থানের প্রতিবাদ করেছিলেন তৎকালীন শিক্ষার্থীরা। (The Daily Star)

এখানে একটি ঐতিহাসিক বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। ১৯৪৮ সালের ভাষার দাবি পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল না। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যেই বাংলার স্বীকৃতি চেয়েছিলেন। ছাত্রসমাজের দাবিও ছিল ভাষার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই দাবি বিস্তৃত হয়েছে। ভাষার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত বাঙালির রাজনৈতিক সংগ্রাম স্বাধীনতার দাবিতে পৌঁছায়।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসও ১৯৫২ সালে শুরু হয়নি। ১৯৪৭-৪৮ সাল থেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে তমদ্দুন মজলিশ, ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা শুরু হয়। সভা, মিছিল, ধর্মঘট, গ্রেপ্তার ও প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় আন্দোলন ক্রমে শক্তিশালী হয়। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। এই ধারাবাহিকতাই পরবর্তী সময়ে বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ডাকসুর দেয়ালে ইতিহাস, ছবি ছিঁড়ে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত?
ডাকসুর দেয়ালে ইতিহাস, ছবি ছিঁড়ে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত?

অতএব, ডাকসুর আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি থাকলে শুধু তাঁর ছবি রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁর ভাষানীতি, ১৯৪৮ সালের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিক্রিয়ার নথিও সেখানে থাকা উচিত। একইভাবে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাব, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংগ্রামের দলিলও থাকা দরকার।

একই কথা প্রযোজ্য জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও।

১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল—এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি নথিভুক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা। দলটির তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের কয়েকজন নেতার ভূমিকা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোতেও আলোচিত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়েছে।

তবে এখানে ব্যক্তি, সংগঠন এবং নির্দিষ্ট সময়ের ভূমিকা আলাদা করে দেখা জরুরি। কোনো ব্যক্তির ছবি একটি আর্কাইভে রাখা মানেই তার সব কর্মকাণ্ডের সমর্থন নয়। বরং ঐতিহাসিক সংগ্রহশালার কাজ হওয়া উচিত—কেন তিনি বা সংগঠনটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, কোন অবস্থান নিয়েছিল এবং সেই অবস্থানের পরিণতি কী হয়েছিল—তার প্রমাণ হাজির করা।

গোলাম আযমের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা, ১৯৭১ সালের অবস্থান এবং স্বাধীনতার পরবর্তী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব বিষয়কে বাদ দিলে ইতিহাস অসম্পূর্ণ হবে; আবার কেবল একটি প্রতিক্রিয়াশীল প্রতীকে পরিণত করলেও ইতিহাসের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।

জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেও ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে—এ তথ্যও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সামনে এসেছে। দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দলের ভেতরে ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে এ বিষয়ে একটি খসড়া বিবৃতিও তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

এই তথ্যও ইতিহাসের অংশ। অর্থাৎ ইতিহাস শুধু বাইরের সমালোচনা দিয়ে তৈরি হয় না; একটি সংগঠনের ভেতরের আত্মসমালোচনা, মতবিরোধ এবং সিদ্ধান্তহীনতার নথিও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সাম্প্রতিক ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতাও এই আলোচনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করেছে। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ২৮টি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। ভিপি, জিএস ও এজিএস পদেও তাদের প্রার্থীরা জয়ী হন।

এই নির্বাচনী ফল বর্তমান ছাত্ররাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। কিন্তু কোনো নির্বাচনী ফলাফল অতীতের ইতিহাসকে বাতিল করে না। একইভাবে অতীতের কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা দিয়ে বর্তমান প্রজন্মের প্রত্যেক সদস্যের অবস্থান নির্ধারণ করাও সঠিক নয়।

তরুণদের কী ভাবতে হবে, কাকে সমর্থন করতে হবে কিংবা কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তা বলে দেওয়ার চেয়ে তাদের সামনে তথ্য ও নথি তুলে দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তারা জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের বক্তব্য পড়ুক। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাব পড়ুক। ভাষা আন্দোলনের নথি ও সে সময়ের সংবাদপত্র দেখুক। ১৯৭১ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রকাশিত বিবৃতি ও প্রচারপত্র পড়ুক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় পড়ুক। আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথায় জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের বিবরণও দেখুক। এরপর তারা নিজেদের মতো করে প্রশ্ন তুলুক এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছাক।

ইতিহাসের নথি যত বেশি মানুষের সামনে থাকবে, ইতিহাস নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার সুযোগ তত কমবে।

এখানেই একটি জাদুঘর বা ঐতিহাসিক আর্কাইভের মূল দায়িত্ব। কোনো সংগ্রহশালা কোনো পক্ষের প্রচারমঞ্চ নয়। আবার কোনো পক্ষের ইতিহাস মুছে ফেলার জায়গাও নয়। সেখানে থাকা উচিত দলিল, ছবি, সংবাদপত্র, বক্তব্য, সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাপ্রবাহ—যাতে দর্শক নিজেই একটি সময়কে বুঝতে পারেন।

ডাকসুর আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি থাকবে কি না—এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ছবি থাকলে তার পাশে ইতিহাসটিও থাকবে কি না।

জিন্নাহ থাকলে তাঁর ভাষানীতির ইতিহাস থাকবে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত থাকলে তাঁর প্রস্তাব থাকবে। ভাষা আন্দোলনের নথি থাকবে। ২১ ফেব্রুয়ারির গুলিবর্ষণের ঘটনাও থাকবে। এরপর আসবে ছয় দফা, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ার ঘটনা এবং ১৯৭১ সালের মার্চের সামরিক অভিযান।

থাকবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। থাকবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ভূমিকা। যারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, তাদের ভূমিকা থাকবে; যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের অবস্থানও থাকবে। রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের ভূমিকা নিয়ে যে নথি রয়েছে, সেগুলোও থাকবে।

কারণ ইতিহাসকে পছন্দমতো বেছে নেওয়া যায় না।

বাংলাদেশের জন্ম কোনো একটি ছবি, কোনো একটি ভাষণ কিংবা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের ফল নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের পরিণতি। ভাষার অধিকার থেকে রাজনৈতিক অধিকার, স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার সংগ্রাম—এই দীর্ঘ পথের প্রতিটি ধাপ বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকতে পারে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও থাকতে পারে। নতুন প্রজন্ম পাকিস্তানের সাহিত্য, সংগীত, সংস্কৃতি কিংবা অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহী হতে পারে। এসবের সঙ্গে ১৯৭১ সালের ইতিহাস অস্বীকার করার কোনো প্রয়োজন নেই।

রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া আর ইতিহাস ভুলে যাওয়া—দুটি এক বিষয় নয়।

বরং অতীত সম্পর্কে সৎ থাকা একটি পরিণত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে। কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজন যেমন আছে, তেমনি ইতিহাসের প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রয়োজনও আছে।

ডাকসুর সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাই শুধু ছবি ছেঁড়া বা ছবি পদদলিত করার ঘটনা হিসেবে দেখলে এর গভীরতর দিকটি আড়ালে থেকে যাবে। এটি আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্নও রাখে—আমরা কি ইতিহাসকে আবেগ দিয়ে দেখব, নাকি দলিল দিয়ে বুঝব?

ছবি ছিঁড়ে ফেলা ইতিহাসের সমাধান নয়। আবার বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির ছবি রেখে তার রাজনৈতিক ভূমিকা গোপন করাও ইতিহাসচর্চা নয়।

ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হলো ইতিহাসের পূর্ণ নথি।

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। বাঙালির রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রাম হয়েছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য মানুষ নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে, বিপক্ষে কিংবা ভিন্ন অবস্থানে ছিলেন—সেসব অবস্থানেরও নথি রয়েছে।

এই সবকিছু মিলেই বাংলাদেশের ইতিহাস।

কোনো ছবি সেই ইতিহাস বদলাতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক স্লোগানও পারে না। কূটনৈতিক সম্পর্কও পারে না।

বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক হোক। প্রশ্ন উঠুক। পুরোনো নথি নতুন প্রজন্ম আবার পড়ুক। ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসুক। কিন্তু প্রমাণিত ঘটনাকে বাদ দিয়ে নতুন ইতিহাস নির্মাণের চেষ্টা যেন না হয়।

কারণ বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস কোনো দেয়ালে ঝোলানো ছবিতে লেখা হয়নি।

সেই ইতিহাস লেখা হয়েছে মানুষের ভাষার অধিকারের সংগ্রামে, রাজনৈতিক আন্দোলনে, ভোটে, রক্তে, যুদ্ধে এবং আত্মত্যাগে।

ফটো কার্ড
শেয়ার করুন
Tags: ১৯৭১ সালের ইতিহাসইতিহাস বিতর্কইসলামী ছাত্র সংঘগোলাম আযমছাত্ররাজনীতিজামায়াতে ইসলামীজিন্নাহডাকসুডাকসু আর্কাইভঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ধীরেন্দ্রনাথ দত্তবাংলাদেশের ইতিহাসভাষা আন্দোলনমুক্তিযুদ্ধমুহাম্মদ আলী জিন্নাহ

বর্তমান প্রতিবেদনটির সাথে সম্পর্কিত

হাসিনাকে দেওয়া কথা কি রাখবেন শুভেন্দু

হাসিনাকে দেওয়া কথা কি রাখবেন শুভেন্দু

by নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৩, ২০২৬ — বৈশাখ ৩০, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
0

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ৯ মে ২০২৬ শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের...

ব্যাংক খাতের সংস্কার নাকি পুরোনো শক্তির পুনর্বাসন

ব্যাংক খাতের সংস্কার নাকি পুরোনো শক্তির পুনর্বাসন

by নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২১, ২০২৬ — বৈশাখ ৮, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ১:০৪ অপরাহ্ণ
0

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত আবারও বড় বিতর্কের কেন্দ্রে। সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু...

"ইতিহাসের ধ্রুবতারা: নতুন প্রজন্মের চোখে শহীদ জিয়াউর রহমান"

“ইতিহাসের ধ্রুবতারা: নতুন প্রজন্মের চোখে শহীদ জিয়াউর রহমান”

by নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২, ২০২৫ — জ্যৈষ্ঠ ১৯, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ — সময়: ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
0

বাসার পাশের একটি মাইকে বাজছিল এক অমোঘ কণ্ঠের ভাষণ—গভীর, দৃপ্ত, দেশপ্রেমে পূর্ণ। সে ভাষণ যেন শুধু শব্দে নয়, ইতিহাসের পাতায় পাতায় প্রতিধ্বনিত হওয়ার মতোই ছিল। ভাষণটি শুনে আমার...

"বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী : গৌরবের উত্তরাধিকার জাতির আস্থার প্রতীক"

“বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী : গৌরবের উত্তরাধিকার জাতির আস্থার প্রতীক”

by নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৬, ২০২৫ — বৈশাখ ৩, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ — সময়: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
0

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু একটি সামরিক শক্তি নয়, বরং জাতির গর্ব ও ঐক্যের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও দেশ ও জাতির...

ইসরায়েলে গণহত্যা বন্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ

ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ

by নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ৮, ২০২৫ — চৈত্র ২৬, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ — সময়: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
0

ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রদল। ফিলিস্তিনে মুসলিমদের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন ও নির্যাতন বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৮...

Next Post
কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

সর্বেশষ

বান্দরবানের পাঁচ উপজেলায় ১০০ নারীর হাতে স্বাবলম্বিতার চাবি

বান্দরবানের পাঁচ উপজেলায় ১০০ নারীর হাতে স্বাবলম্বিতার চাবি

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ — আশ্বিন ৪, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ৪:২৪ অপরাহ্ণ
শিগগিরই গ্যাস সংকট কেটে যাবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

শিগগিরই গ্যাস সংকট কেটে যাবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ — আশ্বিন ৪, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ — আশ্বিন ৪, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ৩:১২ অপরাহ্ণ
ডাকসুর দেয়ালে ইতিহাস, ছবি ছিঁড়ে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত?

ডাকসুর দেয়ালে ইতিহাস, ছবি ছিঁড়ে কি মুছে ফেলা যাবে অতীত?

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ — আশ্বিন ৪, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ২:৫৬ অপরাহ্ণ
একাদশে ভর্তির চূড়ান্ত ফল আজ রাতে

একাদশে ভর্তির চূড়ান্ত ফল আজ রাতে

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ — আশ্বিন ৪, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ — সময়: ২:০৮ অপরাহ্ণ
Khabar Bangla 24

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
যোগাযোগ: ০১৯১১৪৫৯১৫১
ই-মেইল:
[email protected]

Design & Developed by Tangail Web Solutions

No Result
View All Result
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • জাতীয়
  • ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  • স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
  • অন্যান্য
    • অপরাধ ও দুর্নীতি
    • দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা
    • প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ
    • সংস্কৃতি ও বিনোদন
    • আইন আদালত
    • কৃষি ও কৃষক
    • সারাদেশ
  • টাঙ্গাইল জেলা
    • কালিহাতী
    • গোপালপুর
    • ঘাটাইল
    • টাঙ্গাইল সদর
    • দেলদুয়ার
    • ধনবাড়ী
    • নাগরপুর
    • বাসাইল
    • ভূঞাপুর
    • মধুপুর
    • মির্জাপুর
    • সখিপুর

Design & Developed by Tangail Web Solutions

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In