খবর বাংলা ডেস্ক :
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ৯ মে ২০২৬ শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটেছে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, বাঙালি জাতিসত্তা ও ইতিহাস নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয়টিতেই জয়লাভ করেন। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত লড়াইয়ে তিনি তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলা ভাগের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। ১৯৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলা ভাগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিহাসে নানা বিতর্ক রয়েছে। সে সময় অবিভক্ত বাংলাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ধর্মভিত্তিক বিভাজনের মাধ্যমে বাংলা ভাগ হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববাংলার রাজনৈতিক গতিপথে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
বাংলা ভাগের সময় অবিভক্ত বাংলার আইন পরিষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে পশ্চিমাংশ ভারতের সঙ্গে এবং পূর্বাংশ পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, সে সময় অনেক রাজনৈতিক নেতা স্বাধীন অবিভক্ত বাংলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীদের ইতিহাসেও বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যের প্রথম কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতি বসু, যিনি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাজনৈতিক ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বে পূর্ববঙ্গের প্রভাব একটি আলোচিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তবে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে এখনো রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বিজেপির এই জয় রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











