খবরবাংলা ডেস্ক :
দেশে হামের সংক্রমণে মারা যাওয়া শিশুদের ৯১ দশমিক ৪ শতাংশই কোনো এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা নেয়নি। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই টিকার আওতার বাইরে ছিল। স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) পরিচালিত এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সমীক্ষার বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও শিশুদের ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ হলেও মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ। ছয় থেকে নয় মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হার ১৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ। নয় থেকে ১২ মাস বয়সীদের আক্রান্তের হার ১২ শতাংশ, আর মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ। এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১৮ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সন্দেহভাজন সংখ্যা এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৮৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৭৬ জনে পৌঁছেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানের কাভারেজ কমে যাওয়া, দুই ডোজের মধ্যে সুরক্ষার ঘাটতি এবং মাঠপর্যায়ে টিকাদানের প্রকৃত চিত্র নিয়ে অসামঞ্জস্যের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সংক্রমণের প্রথম ঢেউ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন।
ইপিআইয়ের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাব্বির হায়দারের মতে, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা সাধারণত মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে মাতৃ-অ্যান্টিবডি পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান বাড়ানো জরুরি। তিনি ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের টিকার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এর আগে সরকার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পাশাপাশি দেশজুড়ে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের এমআর টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নেয়। তবে পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু শিশু টিকাদানের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। এ কারণে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন করে বিশেষ ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুও শিশুদের জন্য বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে একই সময়ে দুই রোগের চাপ সামলাতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











