খবরবাংলা ডেস্ক :
স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় টলেডো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭৫ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটের দিকে টলেডো প্রদেশের উরদা এলাকার কাছে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া উচ্চগতির রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার খবর জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন সামনে থাকা বেসরকারি রেল অপারেটর ইরিওর ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ইরিও ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী, হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত মেডিকেল ইউনিট উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার কাজ চলে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে উচ্চগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, টলেডোর ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনি মর্মাহত। পরিবহনমন্ত্রী ও কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার আঞ্চলিক সরকারের প্রধানের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। জরুরি সেবাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্পেনের আদামুজ এলাকায় আরেকটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











