টাঙ্গাইলের বাসাইলে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ১৭ হাজার মুরগি মৃত্যুর অভিযোগে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী খামারী আলমগীর হোসেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে প্রান্তিক খামারি ও গ্রামবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে রেনাটা ফার্মার নিজস্ব ভেটেরিনারি চিকিৎসক অদ্বৈত বর্মন ও অপসোনিন ফার্মার নিজস্ব চিকিৎসক মেহেদী হাসানসহ জড়িতরা প্রতারণা মাধ্যমে ক্ষতি সাধান করায় তাদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আলমগীর হোসেন, স্থানীয় বদিউজ্জামান বিদ্যুত, মাছুম রানা, আব্দুল খালেক প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন শুধুমাত্র নিজস্ব কোম্পানির ওষুধ বিক্রির স্বার্থে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করায় তাদের এই ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ –
বক্তারা আরো বলেন, রোগ অনুযায়ী সঠিক পরামর্শ প্রদান না করে অন্য কোম্পানির ওষুধের গুণগত মানের সমালোচনা করে শুধুমাত্র রেনাটা ফার্মার ওষুধ প্রয়োগে প্রলুব্দ করেন। সে মোতাবেক তাদের নিজস্ব তত্বাবধানে খামারে ওষুধ পৌঁছে দিয়ে নগদ টাকা বুঝে নেন। এরপর ওষুধ প্রয়োগ করার পর খামারে মুরগির মৃত্যু শুরু হলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা যোগাযোগ রক্ষা করেনি যা সুস্পষ্ট দায়িত্বে অবহেলা। আমরা মনে করি কোম্পানির বিক্রি বাড়াতে চিকিৎসক সঠিক পরামর্শ না দিয়ে খামারীর সাথে প্রতারণা করেছেন, যা চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা। দ্রুত ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারী দেন তারা।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ –
এদিকে খামারির থানায় ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় ২ মাস আগে মাংস উৎপাদনের জন্য ৫৫ হাজার মুরগি বাচ্চা তোলেন খামারি আলমগীর হোসেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মুরগির খামারে পরামর্শ দেয়ার জন্য আসেন রেনেটা ফার্মা লিমিটেড (বাসাইল-সখিপুর) এর দাঁয়িত্বে থাকা চিকিৎসক অদ্বৈত বর্মন উপস্থিত থেকে কৌশলে অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড (বাসাইল-সখিপুর) এর দাঁয়িত্বে থাকা চিকিৎসক মেহেদীর মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। পরে রেনেটা ফার্মার মার্কেটিং অফিসার ও চিকিৎসক প্রলুব্দ ও বাধ্য করেন অন্য কোম্পানির ওষুধ না ক্রয় করে রেনেটা কোম্পানির সকল ওষুধ ক্রয় করতে।
এর দুদিন পর ১৬ তারিখ রেনেটা ফার্মা লিমিটেডের ভাউচারে চারটি এন্টিবায়োটিক ওষুধ পাঠানো হলে সেগুলো ১৭ হাজার সেডে ৯টার দিকে প্রয়োগ করলে দিবাগত রাত ৪টার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার মুরগি মারা যায়। এমন পরিস্থিতিতে বারবার রনেটা ফার্মা লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেলসম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন প্রকার সাড়া দেননি। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ৫ হাজার মুরগি মারা যায়।
এ ঘটনায় চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগী খামারি আলমগীর। এছাড়াও উপজেলা ও জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।











