দেলদুয়ার সংবাদ দাতা
ইউরোপের দেশ ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন ও কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা জহিরুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ মে) টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের বাউসাইদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জহিরুল ওই গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
যেভাবে চলতো জহিরুলের পাচার ও নির্যাতনের ফাঁদ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জহিরুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। তবে ইতালি না পাঠিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের কৌশলে পাঠিয়ে দিতেন লিবিয়ায়।
সেখানে জহিরুলের সহযোগীরা বন্দিশালায় রেখে ভুক্তভোগীদের ওপর চালাতো অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরবর্তীতে সেই নির্যাতনের নির্মম ছবি ও ভিডিও দেশে থাকা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হতো। ইতিমধ্যে বরিশাল ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার একাধিক ব্যক্তি তার এই ভয়ঙ্কর প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর মামলায় গ্রেফতার এই চক্রের শিকার বরিশাল জেলার মুলাদী থানার বেপারীবাড়ী এলাকার আমজাদ আলীর ছেলে আবুল হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই দেলদুয়ার থানা পুলিশ জহিরুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান: “জহিরুল আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও প্রতারণা করে তিনি ইতিমধ্যে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ টাকা জহিরুল এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। জহিরুলের এই চক্রের বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি এবং প্রতিনিয়ত তার নতুন নতুন প্রতারণার তথ্য বেরিয়ে আসছে।”











