টাঙ্গাইল সদর
,
সংবাদ দাতা
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এই পবিত্র রাত কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের নামাজের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
অনেক মুসল্লি সারারাত নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকবেন। অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনায় রাতের শেষ প্রহরে বিশেষ মোনাজাত করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
শবে বরাত উপলক্ষে কেউ মসজিদে, কেউ বাড়িতে অবস্থান করে নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত করছেন। অনেকে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। পাড়া-মহল্লার মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজনও করা হয়েছে।
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বাড়িতে বাড়িতে মাংস, হালুয়া, রুটি ও বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই মসজিদগুলোতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে ইবাদতের পাশাপাশি শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
ফারসি ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত মুসলিম উম্মাহ ‘লাইলাতুল বরাত’ বা শবে বরাত হিসেবে পালন করে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশ, ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই রাত শবে বরাত নামেই অধিক পরিচিত।
শবে বরাত মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তাও বহন করে। শাবান মাসের পরেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়। তাই এই রাত থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেন অনেকে।
শবে বরাত উপলক্ষে সরকারি উদ্যোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাগরিবের পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ ও না’তে রাসুল (সা.), শবে বরাতের ফজিলত ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত।










