খবর বাংলা ডেস্ক :
ফেনীর পরশুরামে আলোচিত ধর্ষণ মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় কিশোরীর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা স্থানীয় এক ইমামকে তদন্ত শেষে নির্দোষ ঘোষণা করেছে পুলিশ।
মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ। পরে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিস্তারিত তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি কারাভোগ করেন। তবে শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন তিনি।
পরে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কিশোরী ও অভিযুক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় মোজাফফরের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এরপর তদন্ত আরও গভীর হলে কিশোরী তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী স্বীকার করে যে তার আপন বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। পরে অভিযুক্ত বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
পরবর্তীতে কিশোরী, তার নবজাতক সন্তান ও বড় ভাইয়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে রিপোর্টে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিশুটির জৈবিক পিতা ওই কিশোরীর বড় ভাই।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ইমামের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি জানান, মামলার কারণে চাকরি হারিয়েছেন, সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছেন এবং মামলা চালাতে জমি বিক্রি করতে হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হওয়ায় নিরপরাধ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন।











