খবর বাংলা ডেস্ক :
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। সোমবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
এ নিয়ে গত তিন দিনে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে মোট ১৪৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। একই ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং বৈধ ছাড়পত্রের মাধ্যমে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ফেরত আসা এক ভুক্তভোগী জানান, স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি নির্যাতনের অংশ হিসেবে ইলেকট্রিক শকও দেওয়া হতো। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় এসব স্ক্যাম সেন্টারের নিয়ন্ত্রকরা পালিয়ে গেলে তারা মুক্তি পান।
আরেক ভুক্তভোগীর দাবি, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি দালাল দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য বাংলাদেশিকে স্ক্যাম সেন্টারে পাঠিয়েছে। সেখানে তাদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হতো।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার প্রতারণায় অংশ নিতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
এর আগে গত ১২ জুন ৩৭ জন এবং ১৩ জুন ৫৪ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরেন। একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে এর আগেও মিয়ানমারের বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, তিন দিনে ১৪৩ জন বাংলাদেশির দেশে ফেরা প্রমাণ করে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ ধরনের মানবপাচার ও সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ব্র্যাক জানায়, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার কর্মীসহ বিভিন্ন পদে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফাঁদ পাতা হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে সাইবার প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়।
এ কারণে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











