খবর বাংলা ডেস্ক :
প্রতিদিন প্রায় ২৮ হাজার যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাসে নির্মিত কর্ণফুলী টানেলে বর্তমানে দৈনিক চলাচল করছে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার যানবাহন। ফলে টোল থেকে অর্জিত আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
এই আর্থিক ক্ষতি কমাতে কর্ণফুলী টানেলের দক্ষিণ প্রান্তে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সার্ভিস এরিয়া বা রেস্টহাউস বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১০ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কর্ণফুলী টানেল চালুর পর প্রত্যাশিত সংখ্যক যানবাহন আকর্ষণ করতে পারেনি। বর্তমানে টানেলটির দৈনিক পরিচালন ব্যয় ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা হলেও টোল বাবদ আয় হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা। ফলে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের লোকসান বহন করতে হচ্ছে।
সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টানেল উদ্বোধনের আগে করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ২০২৫ সালে দৈনিক ২৮ হাজার ৩০৫টি যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রার এক-চতুর্থাংশেরও কম যানবাহন টানেল ব্যবহার করছে।
টানেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী বলেন, টানেলকে ঘিরে সড়ক অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত মাত্রায় গড়ে ওঠেনি। তবে সময়ের সঙ্গে যানবাহন চলাচল বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লোকসান কমানোর অংশ হিসেবে টানেলের দক্ষিণ প্রান্তে নির্মিত সার্ভিস এরিয়াটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে রয়েছে ৩০টি তিন কক্ষবিশিষ্ট বাংলো, ৪০টি ডরমিটরি রুম এবং একটি ভিভিআইপি বাংলো।
সৈয়দ রজব আলী জানান, আগামী ১৬ জুন রিসোর্ট ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। পর্যটন খাতে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।










