ধনবাড়ী
,
সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, মারধর, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনের সঠিক ও কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন জরুরি। পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে এগিয়ে না এলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।
সম্প্রতি ধনবাড়ী পৌর শহরের পূর্ব চালাষ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হন ধনবাড়ী আলিম মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র আলভি শাহরিয়ারসহ আরও দুই শিক্ষার্থী আলিফ ও তামজীদ। হামলার পর তাদের ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, ঘটনার দিন মাদ্রাসা ছুটির পর উপজেলা পরিষদের পাশের মডেল মসজিদের সামনে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে। স্টিলের পাইপ, কিল ও ঘুষি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। আহত আলভি শাহরিয়ার বলেন, হামলাকারীদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। এই ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর মা মোকছেদা পারভীন লিপি গত ১৩ ডিসেম্বর ধনবাড়ী থানায় পৌর শহরের খাসপাড়া এলাকার তিনজন কিশোর গ্যাং সদস্যের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেন। তার অভিযোগ, অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এই ঘটনাই নয়—মাঝে মধ্যেই ধনবাড়ীতে চুরি, ছিনতাই এমনকি শিশু শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনাও ঘটছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের আড়ালে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোররা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধনবাড়ী পৌর শহরের ঈদগাহ মাঠ, মহিলা কলেজ রোড, খাসপাড়া, মেলার মাঠ, পলাশতলী এলাকা, সরকারি ধনবাড়ী কলেজ মাঠসহ উপজেলার অন্তত এক ডজন স্থানে প্রায়ই কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বারবার হামলার ঘটনা ঘটলেও অনেকেই ভয়ে মামলা করেন না। এতে অভিযুক্তরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, গত এক বছরে উপজেলায় অন্তত ৬ থেকে ৭টি বড় ধরনের কিশোর গ্যাং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিছু কিশোরকে আটক করলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের প্রয়োগে গাফিলতি ও তদন্তের দুর্বলতার সুযোগেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
টাঙ্গাইল জেলা বার সমিতির সিনিয়র আইনজীবী আতাউর রহমান খান আজাদ বলেন, কিশোর গ্যাং রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের সকল স্তরের মানুষ ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অপতৎপরতার অভিযোগ পেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











