খবর বাংলা ডেস্ক :
নোয়াখালী সদর উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের নির্মম মারধরে ব্যবসায়ী কামাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও কিশোর গ্যাং নেতা মো. রনিকে (২৪) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে র্যাব এক যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে রনিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত রনি নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের নিয়ন আলী হাজী বাড়ির মো. ইউসুফের ছেলে।
জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় হামলা স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের লচি সর্দার বাড়ির পেছনে একদল কিশোর গ্যাং সদস্য জুয়া খেলছিল। সে সময় ফরহাদ (২৭) নামে এক যুবক তাদের ওই স্থান ত্যাগ করে চলে যেতে বলেন। এতে তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও ভেতরে ভেতরে প্রতিশোধের ছক আঁকে।
পরবর্তীতে একই রাতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফরহাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে।
ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে চাচার মৃত্যু মারধরের শিকার ফরহাদের চিৎকারে তার চাচা স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ফরহাদকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আরও উগ্র হয়ে ওঠে। তারা ফরহাদকে ছেড়ে চাচা কামাল হোসেনকে লক্ষ্য করে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই ব্যবসায়ী কামালের মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কামালের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৩৮) বাদী হয়ে নোয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামি থানায় হস্তান্তর র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বলেন, “ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে মূল হোতা রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত মালামালসহ তাকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











