খবরবাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি অসংখ্য নারীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কেউ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, কেউ চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, কেউ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছেন।
তাদের মধ্যে সাতজন বিশিষ্ট নারী আজও সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়। ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক) মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি শরণার্থীদের সহায়তা, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পরও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বেগম মুশতারী শফী চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বেসামরিক সংগঠক ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, সহায়তা এবং স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তারামন বিবি (বীর প্রতীক) ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন অভিযানে সহযোগিতা এবং সাহসিকতার জন্য তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। পরে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়।
কাকন বিবি (বীর প্রতীক) সিলেট অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গেরিলা অভিযানে সহায়তা করেন। যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ চালিয়ে যান। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকেও বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।
বেগম সুফিয়া কামাল মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পরও গণতন্ত্র, নারী অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন।
জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে এসব নারীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবতা ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে চলেছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











