মধুপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি গারো পরিবারের ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রাইফেল তাক করে নারীসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের জানান, মধুপুরের চাঁদপুর রাবার বাগানের কালো পাহাড় এলাকায় রমেন কুবি ও শিবলী মাং সাং দম্পতি বসবাস করেন। গত সোমবার (৯ মার্চ) তারা সেখানে আরও একটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন রাবার বাগানের মাঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন আনসার সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন।
এ সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক আনসার সদস্য গারো পরিবারের এক নারী সদস্যের দিকে রাইফেল তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
ঘটনার পর মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনও জানান, রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ ওই পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, ছয় হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউএনও ও ওসিকে না জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান না চালাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রমেন কুবি বলেন, তাদের পরিবারের ১৩ সদস্য সেখানে বসবাস করেন। ছোট একটি ঘরে সবাইকে থাকতে হওয়ায় কষ্ট হয়। তাই নতুন একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু রাবার বাগানের কর্মকর্তারা আনসার নিয়ে এসে ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন এবং তাদের লাগানো কয়েকটি গাছও কেটে ফেলেন।
বুধবার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা রমেন কুবির বাড়ি পরিদর্শন করেন। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, মধুপুরের গারোসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে তারা সব সময় উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকেন। রমেন কুবির পরিবারের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা নিন্দনীয় এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
আবিমা সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অজয় এ মৃ বলেন, মধুপুরে বসবাসরত আদিবাসীদের জমি চিহ্নিত করে তাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে উচ্ছেদ আতঙ্ক থেকেই যাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বন বিভাগ ও রাবার বাগান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তবে চাঁদপুর রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান বলেন, কাউকে উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাগানের জমিতে নতুন করে ঘর নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় আনসার সদস্যদের ওপর হামলা ও অশ্লীল গালাগাল করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা অস্ত্র তাক করেন। তিনি দাবি করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।











