খবর বাংলা ডেস্ক :
সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে ওজন কমানোর নানা ধরনের পানীয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টিকটক ও পিন্টারেস্টে প্রচলিত বিভিন্ন ‘ম্যাজিক’ টনিক তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ না করে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর পানীয় বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভালো ওজন কমানোর পানীয় এমন হওয়া উচিত যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, শরীর হাইড্রেটেড রাখে এবং বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্যালোরি পোড়াতে ভূমিকা রাখে।
ওজন কমানোর জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে গ্রিন টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইজিসিজি শরীরের চর্বি কমাতে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। নিয়মিত গ্রিন টি খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ক্যালোরি পোড়ানোর হার কিছুটা বাড়তে পারে।
আরেকটি জনপ্রিয় পানীয় হলো আপেল সিডার ভিনেগার। এটি ক্ষুধা কমাতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি অতিরিক্ত খেলে পেটের সমস্যা এবং দাঁতের ক্ষতি হতে পারে, তাই পরিমিত মাত্রায় পানি মিশিয়ে গ্রহণ করাই ভালো।
চিয়া লেমনেডও বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। চিয়া বীজে থাকা ফাইবার পানিতে ফুলে গিয়ে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে ক্ষুধা কমে। এর সঙ্গে লেবুর ভিটামিন সি হজমে সাহায্য করে।
লেবু-আদা পানি হজম শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ফাঁপাভাব কমাতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে শসা-পুদিনা পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
কিছু স্মুদি যেমন কটেজ চিজ স্মুদি প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং পেশি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এছাড়া দারুচিনি মিশ্রিত দুধ বা কফি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত অনেক ‘ম্যাজিক ড্রিংক’ বা ডিটক্স পানীয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এগুলো সহায়ক হতে পারে, কিন্তু একমাত্র সমাধান নয়।
তাদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়ামই দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শুধুমাত্র ট্রেন্ড অনুসরণ করে পানীয় গ্রহণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











