খবর বাংলা ডেস্ক :
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে এই অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ব্রেন্ট তেল ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক লাভের পথে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৪.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৪ শতাংশ কমেছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এ পথ ঝুঁকির মুখে পড়লে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বাব আল-মানদেব প্রণালিও ঝুঁকির মুখে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার, যা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বেড়ে ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়—২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং পাল্টা হুমকির কারণে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











