খবরবাংলা ডেস্ক :
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল আইনপ্রণেতা। তাদের অভিযোগ, চলমান বিশ্বকাপে বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত ফুটবলের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনপ্রণেতারা। এখন পর্যন্ত ওই চিঠিতে ৩৫ জন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ইউরোপের ফুটবল সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। বিশেষ করে বালোগান-সংক্রান্ত মামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।
‘রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে ফিফা’ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুস, লারা ভল্টার্স এবং নিলস ফুগলস্যাং এক যৌথ বিবৃতিতে ফিফার কঠোর সমালোচনা করেন।
তাদের ভাষ্য, টুর্নামেন্ট চলাকালে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ছিল “লজ্জাজনক” এবং এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফুটবলের সৌন্দর্য নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক চাপ যদি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বা শাস্তির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তাহলে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কী নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক? বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি ম্যাচকে ঘিরে।
সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার বালোগান সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওই সিদ্ধান্তকে “অন্যায়” বলে মন্তব্য করেন।
এরপর ফিফা একটি আইনি বিধান প্রয়োগ করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এই সিদ্ধান্তের পরই ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।
রেফারিং ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন চলমান ফিফা বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে একাধিক বিতর্ক ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, শুধু বালোগান ইস্যুই নয়, রেফারিং, ম্যাচ পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্পন্সর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগও পর্যালোচনার আওতায় আনা উচিত।
তাদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আস্থা ধরে রাখতে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











