বাসাইল সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার প্রত্যন্ত বিলপাড়া গ্রাম—এক সময় যেখানে যাতায়াত ছিল কষ্টকর, সেই গ্রামই এখন পরিচিত সুস্বাদু সাদা চমচমের জন্য। আর এই খ্যাতির পেছনে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী নেওয়াজ আলী, যার হাতের তৈরি চমচম এখন জেলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গেছে।
১৯৯৪ সালে নেওয়াজ আলীর ছেলে সুজন মিয়া বিলপাড়া বাজারে একটি ছোট মিষ্টির দোকান চালু করেন। তবে শুরুতে ব্যবসা জমেনি। দেড় বছরের মাথায় জীবিকার তাগিদে তিনি পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। এরপর দোকানের দায়িত্ব নেন বাবা নেওয়াজ আলী।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাঁটি গরুর দুধ থেকে ছানা তৈরি করে তিনি শুরু করেন ভিন্নধর্মী সাদা চমচম বানানো। ধীরে ধীরে এই চমচমের স্বাদ ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়, পরে পুরো টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ধারে ছোট্ট বিলপাড়া বাজারে একটি সাধারণ দোকানেই তৈরি হচ্ছে এই বিখ্যাত মিষ্টি। প্রথমে খাঁটি দুধ থেকে ছানা তৈরি করা হয়, এরপর সামান্য ময়দা ও এলাচের গুঁড়া মিশিয়ে আকার দেওয়া হয় চমচমের। পরে চিনির শিরায় সিদ্ধ করে তৈরি হয় সুস্বাদু সাদা চমচম।
নেওয়াজ আলী জানান, অন্যান্য জায়গার তুলনায় তারা ময়দা খুব কম ব্যবহার করেন—পাঁচ কেজি ছানায় মাত্র ১০০ গ্রাম ময়দা দেওয়া হয়। এ কারণেই তাদের চমচমের স্বাদ আলাদা।
এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এই চমচম কিনতে। মির্জাপুরের পাকুল্লা থেকে আসা এক ক্রেতা জানান, আশেপাশে অনেক মিষ্টির দোকান থাকলেও বিলপাড়ার সাদা চমচমের স্বাদ আলাদা, তাই দূর থেকে এসেও এটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, কাছেই অবস্থিত মির্জাপুরের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুলিশ সদস্য ও পর্যটকরাও ফেরার পথে বিলপাড়ায় এসে এই চমচম কিনে নিয়ে যান। তাদের মাধ্যমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই মিষ্টির সুনাম।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বিলপাড়ার এই সাদা চমচম এখন এলাকার গর্ব। একসময় পোড়াবাড়ীর চমচম যেমন বিখ্যাত ছিল, তেমনি এখন নেওয়াজ আলীর চমচমও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
দীর্ঘ ৩২ বছরের এই যাত্রায় ছোট একটি দোকান থেকে শুরু করে আজ দেশের পরিচিত এক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে বিলপাড়ার সাদা চমচম।











