খবর বাংলা ডেস্ক :
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে দলের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সমর্থন দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে।
আবার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে তাঁর বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাকেও তিনি সমর্থন জানিয়েছেন।
কাদের সিদ্দিকী জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসনে তাঁর এবং তাদের দলের অবস্থানটা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়, এটা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে।এবার নির্বাচনে মানুষ ভালো ভাবে ভোট দিতে পারবে না, সেই জিনিসটি দেখার জন্য তাঁর বড় ভাইকে টাঙ্গাইল-৪ আসনে প্রার্থী হতে অনুরোধ করেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল স্মরণিতে তাঁর বাসভবন ‘সোনার বাংলা’য় তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে বেশির ভাগ ভোটার, সাধারণ মানুষ ভোটদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ একটা মস্ত বড় দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মকর্তারা অন্যায় করতে পারেন। সেজন্য তাদের শাস্তি হতে পারে, কিন্তু একটা রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবে না, এধরণের কোন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক না অগণতান্ত্রিক, মানুষের অধিকার বিরোধী। সেজন্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবার ভোটে অংশগ্রহণ করে নাই।
ভোটে অংশগ্রহণ না করার পরেও তাঁর নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, যেহেতু ওখানে (সখীপুর-বাসাইল) আমাদের দলের জন্ম সেহেতু একটা খেলা হলে অন্তত খেলা দেখতে যেতে হয়। আমরা সেই খেলা দেখতে গেলাম।
তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই আহমেদ আযম খানকে নিয়ে যে ইলেকশনটা এটা পরিস্কার বলা যায় না যে সরাসরি বিএনপির বিরুদ্ধে। অনেকটা আহমেদ আযমেরই বিরুদ্ধে। তিনি একজন অরাজনৈতিক মানুষ। তিনি আমাদের কাছে এসেছিলেন খুবই সুন্দর কথা বলেছেন। উনি খুব গুছিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন, বলেছেন। আমি তাকে বলেছিলাম যে, আমি কর্মীদের কাছে জিজ্ঞাসা করে নেই, তারপর দেখা যাক কি বলা যায়।’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘উনি (আহমেদ আযম) বহু মানুষকে জেলখানায় ঢুকিয়েছেন। আবার সেখান থেকে ছাড়িয়ে এনে তার পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। কালকেও দেখলাম ওরকম। এইখানে সবচেয়ে বড় কথা হলো, উনি কথা দিয়ে কথা রাখেন না। দ্বিতীয়ত উনি মুক্তিযোদ্ধা না। তারপরও উনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলছেন। খন্দকার বাতেনের সঙ্গে না কি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে বাতেনের কোন অস্তিত্ব ছিলো না। তা যাই হোক কালকেই আমি শুনলাম একজন প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা শেখ হাবিব। সেই শেখ হাবিবকে তাঁর (আহমেদ আযম) লোকেরা তাঁর সামনে মারধর করেছে।
প্রথম কাতারের মুক্তিযোদ্ধা শেখ হাবিব বিএনপি করেন। তারপরও যদি তাঁর হাতে মার খেতে হয়, সরকার গঠন হয়-ই নাই এখনই যদি এমন হয়, তাহলে সংসদে গেলে সরকার গঠন হলে আহমেদ আযমের চাপে সখীপুরে মানুষ থাকতে পারবে না। তাই মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের অনুরোধে আমরা আহমেদ আযমের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন দিয়েছি।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর দলের অবস্থান নেয়া প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় কোন প্রভাব আমাদের প্রার্থীর উপর পরবে না। এ ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন নই।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে তাঁর বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবং তাঁকে সমর্থন দেয়া প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত তিন বার শেখ হাসিনার আমলে মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। এবার তার চাইতেও খারাপ হবে। সেই জিনিসটি দেখার জন্যে আমি যাঁর কাছে রাজনীতি শিখেছি সে আমার নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কালিহাতীতে ইলেকশন করার জন্য অনুরোধ করেছি। রাস্তাঘাটে জনসাধারণও তাঁকে অনুরোধ করেছে। সে অনুরোধের প্রেক্ষিতে উনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর প্রচারণায় অংশ নেবেন কি না এ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি যখন যেখানে যাই শরীর নিয়ে যেমনি যাই, দেহ নিয়ে যেমনি যাই, তেমনি হৃদয় মন সব নিয়েই যাই। যদি নির্বাচনে নিজের যাওয়ার দরকার হয়, প্রচারণার দরকার হয়, তাও করবো। সমর্থন দিয়েছি তো, সেই সমর্থনটাতো ঘোমটা দিয়ে নয়।
তথ্য সূত্র – প্রথম আলো










