খবর বাংলা ডেস্ক :
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের উপসাগরীয় উপকূলে কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়তে থাকা একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ইরান ভূপাতিত করেছিল। এর জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব ড্রোন ওই অঞ্চলে নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থাকায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এখনো দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ হয়ে রয়েছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সংঘাতও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবানন ও ইসরায়েলের নেতাদের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











