টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টাঙ্গাইল জুড়ে আনন্দের আমেজ যেন থামছেই না। ঈদের ছুটি ঘিরে জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে সকাল থেকেই মানুষ ছুটে যাচ্ছেন শহর ও জেলার জনপ্রিয় স্পটগুলোতে।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের নামাজ আদায়ের পর থেকেই শুরু হয় আনন্দ উদযাপন। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে হাজারো মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে। শহরের ডিসি লেক, এসপি পার্ক, সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং ঘারিন্দা রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে সব বয়সী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কেউ নাগরদোলা ও দোলনায় সময় কাটাচ্ছেন, কেউ দিঘী বা বিলের জলে নৌকা ভ্রমণ করছেন। আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা সেলফি তুলতে ব্যস্ত। ঈদের এই আনন্দঘন পরিবেশে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে শিশুদের মধ্যে।
এছাড়া প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে অনেকে ছুটে গেছেন মধুপুর বনাঞ্চল, ধনবাড়ী নবাব বাড়ি, গোপালপুরের ২০১ গম্বুজ মসজিদ, হেমনগর জমিদার বাড়ি, যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা, বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা ও যমুনা রিসোর্টে। একইভাবে এলেঙ্গা রিসোর্ট, করটিয়া জমিদার বাড়ি, মহেড়া জমিদার বাড়ি, আতিয়া জামে মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থানে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
ঈদের ছুটিতে বিশেষ করে তরুণদের উপস্থিতি ছিল বেশি। অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ফাঁকা সড়কে দলবেঁধে আনন্দ করছেন।
স্বপরিবারে ঘুরতে বের হওয়া জসিম উদ্দিন জানান, সুন্দর আবহাওয়ায় সন্তানদের ইচ্ছা পূরণ করতে বাইরে এসেছেন। পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত। অন্যদিকে দর্শনার্থী রুনা আক্তার বলেন, পরিবহন সীমাবদ্ধতার কারণে দূরে যেতে না পারলেও শহরের ভেতরেই রিকশায় ঘুরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন।
যমুনা নদীর তীরেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আশপাশের জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীরা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। টাঙ্গাইল সদর থেকে আসা মানিক মিয়া জানান, গরমের কারণে শহরের ভিড় এড়িয়ে তারা নদীর পাড়ে স্বস্তির সময় কাটাতে এসেছেন।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে টাঙ্গাইলের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। আনন্দ আর উৎসবে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলা।











