দেলদুয়ার সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত এলাসিন শামছুল হক সেতুর টোলমুক্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেলদুয়ার, নাগরপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এখন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে টোলমুক্তের দাবিতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি টোলমুক্ত হলে চার উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রসার ঘটবে। ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের পাশাপাশি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।
একসময় তিন দিক নদী বেষ্টিত নাগরপুর উপজেলা ছিল অনেকটা বিচ্ছিন্ন জনপদ। ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের আগে দীর্ঘদিন ফেরি ও নৌকার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হতো স্থানীয়দের। ১৯৯২ সালে ফেরি চালু হলেও দুর্ভোগ পুরোপুরি কমেনি। পরে ২০০৯ সালে এলাসিন-নাগরপুর সংযোগ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫১৫ দশমিক ১২ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি। ২০১৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামছুল হকের নামে নামকরণের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই সেতুতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি টোল আদায় শুরু হয়।
বর্তমানে সেতুটিতে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ট্রাক পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনের জন্য নির্ধারিত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, টোল আদায়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে ইজারাদারদের সঙ্গে চালকদের প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি টোল বন্ধ, সেতুর সংস্কার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবিতে নাগরপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শত শত মানুষ। আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
স্থানীয় সিএনজি চালক শাহাদত দেওয়ার বলেন, “সেতু নির্মাণে যে খরচ হয়েছে, তা অনেক আগেই উঠে গেছে। এখন সরকারের উচিত টোল তুলে দেওয়া।” ট্রাক চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “টোল দিতে গিয়ে ভাড়ার সঙ্গে খরচ মেলে না। তাই আমরা টোলমুক্ত সেতু চাই।”
নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, নাগরপুরসহ আশপাশের কয়েক লাখ মানুষের প্রাণের দাবি হলো সেতুর টোলমুক্ত করা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান জানান, ২০১৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতুতে টোল আদায়ের বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আওয়াল লাভলু বলেন, সেতুর টোলমুক্তের দাবিতে তিনি জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। টোল আদায় বন্ধ হলে এই অঞ্চলের মানুষ নির্বিঘ্নে ও ভোগান্তিমুক্তভাবে চলাচল করতে পারবেন।











