কালিহাতী সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বালু ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির চার নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিনের অনুসারীদের হামলায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে এলেঙ্গা পৌরসভার হলপাড় এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কালিহাতী থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, এলেঙ্গা পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফকির, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলামিন মিয়া, বিএনপি নেতা ও প্রবাসী ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান এবং শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে “সাদা সোনা” নামে পরিচিত এই বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এমপির ভাই আখতারুজ্জামান সিকদারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
এলাকাবাসী জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী এলাকায় বালু ব্যবসা নিয়ে উজ্জ্বল সরকার ও রাকিব সিকদার-এর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাতে কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে উজ্জ্বল সরকারকে খুঁজতে থাকে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।
এর কিছুক্ষণ পর রাত সোয়া ১২টার দিকে হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপি অফিসে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সেখানে উপস্থিত চার নেতাকর্মী কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত বিএনপি নেতা আলামিন মিয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয় এমপির ভাই আখতারুজ্জামান সিকদারের নির্দেশে তার ভাতিজা রাকিব সিকদার ও সহযোগীরা হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা কেউ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন; বরং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় এমপির ভাই আখতারুজ্জামান সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মারামারির ঘটনা সম্পর্কে তিনি শুনেছেন, তবে এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম জানান, এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং অপর পক্ষের অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, কালিহাতীতে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।











