মধুপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দোখলা মাঠে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম আঞ্চলিক স্কাউট অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প। চারদিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমধর্মী ক্যাম্পে ঢাকা অঞ্চলের ১৪টি জেলার প্রায় ৭০০ জন স্কাউট, স্কাউটার ও কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। স্কাউটদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই আয়োজন করেছে বাংলাদেশ স্কাউটস, ঢাকা অঞ্চল।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই ক্যাম্প আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল) পর্যন্ত চলবে। মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা জাতীয় উদ্যানের মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোররা তাবুতে অবস্থান করে বিভিন্ন রোমাঞ্চকর, চ্যালেঞ্জিং ও সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
ঘন বন আর উন্মুক্ত মাঠে সাজানো হয়েছে ক্যাম্পের পুরো আয়োজন। মাঠজুড়ে সারিবদ্ধ তাবু, স্কাউটদের দলগত কাজ, রান্না, পানি সংগ্রহ এবং নানা কার্যক্রমে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই স্কুলপড়ুয়া, যাদের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। সবার পরনে স্কাউটের নির্ধারিত পোশাক—আকাশি রঙের শার্ট, নেভি ব্লু প্যান্ট ও সবুজ স্কার্ফ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্কাউটের আঞ্চলিক কমিশনার ড. সাধন কুমার বিশ্বাস, আঞ্চলিক সম্পাদক আতাউর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, ক্যাম্প সভাপতি শফিকুর রহমান এবং আঞ্চলিক উপ-কমিশনার (প্রোগ্রাম) সায়েদ বাসিত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল ও স্কাউটের উপকরণ দিয়ে বরণ করে নেয় আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, অভিভাবক ও স্কাউট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ স্কাউটস মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, এই ক্যাম্পে ঢাকা অঞ্চলের ১৪ জেলার বাছাইকৃত স্কাউট সদস্যরা অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে দলগত কাজ, নেতৃত্ব, আত্মনির্ভরশীলতা ও সেবামূলক মানসিকতা গড়ে তোলাই এই ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য।
অংশগ্রহণকারী ও অভিভাবকদের মধ্যেও এ আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ঘাটাইল থেকে আসা অভিভাবক মঞ্জুরা বেগম বলেন, “এই ক্যাম্পের মাধ্যমে শিশুদের নতুন অভিজ্ঞতা হবে, যা তাদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে।”
স্কাউট সদস্য গৌরি দাস মৌমিতা বলেন, “এখানে আমরা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, পরিবেশ রক্ষা ও নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের শিক্ষা পাচ্ছি।”আরেক অংশগ্রহণকারী আয়শা আক্তার জানান, “নিজের কাজ নিজে করা এবং দলগতভাবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা খুবই উপকারী।”
মধুপুর উপজেলা স্কাউট কমিশনার তারেকুল ইসলাম বলেন, দেশে এই ধরনের আঞ্চলিক অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প এই প্রথম। এতে স্কাউটদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
টাঙ্গাইল ইউনিট স্কাউট কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রতিটি জেলা থেকে একটি করে স্কাউট দল অংশ নিচ্ছে এবং স্বাগতিক মধুপুর থেকে অংশ নিচ্ছে চারটি দল। প্রতিটি দলে রয়েছে ৮ জন স্কাউট ও ১ জন ইউনিট লিডার। চারদিনের এই ক্যাম্পের মাধ্যমে স্কাউটরা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলবে।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই আঞ্চলিক স্কাউট অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প মধুপুর জাতীয় উদ্যানে এক অনন্য শিক্ষামূলক ও রোমাঞ্চকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।











